MicroMac Techno Valley Ltd. - বাস্তব কর্ম-অভিজ্ঞতার নির্যাস | CEO আনিস সাহেবের ছ্যাঁচড়ামি এবং টক্সিক কর্ম পরিবেশ
MicroMac Techno Valley Ltd. । https://www.mmtvbd.com
Negative
নেতিবাচক অভিজ্ঞতা:
1. বেতন ও কাজের ভারসাম্য নেই:
-
বেতন কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল; জুনিয়র ডেভেলপারদের ১০ হাজার টাকার নিচে দিয়ে সিনিয়র লেভেলের কাজ করানো হয়।
-
সিনিয়র ডেভেলপারদের বেতন ৩৫-৪৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় অপ্রতুল। যেখানে অনেক কম্পানি ফ্রেশারদের স্যালারিই ৩০ হাজার দেই।
2. ছুটি ও ওভারটাইম:
-
সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার হলেও অধিকাংশ ডেভেলপারদের শনিবার অফিসে আসতে হয়।
-
ছুটির দিনে উপস্থিত না হলে বেতন কাটার হুমকি দেওয়া হয়।
-
অতিরিক্ত কাজ করলেও কোনো ওভারটাইম সুবিধা নেই।
3. ম্যানেজমেন্ট ও লিডারশিপ সমস্যা:
-
CEO অত্যন্ত কিপটে এবং পিছন থেকে সিদ্ধান্ত দিয়ে পুরো অফিস পরিচালনা করেন।
-
টিম লিডরা মেরুদণ্ডহীন; তারা টিমের পক্ষে দাঁড়ায় না, বরং CEO-এর কথায় উঠবস করে।
-
একজন সিনিয়র টিম লিড সবসময় অন্যদের নিচে টেনে রাখতে চায়; নতুন টেকনোলজি অপছন্দ করে এবং অগ্রগতি থামিয়ে দেয়।
4. অপমান ও হেনস্তা:
-
চাপের মধ্যে কাজ করলেও সামান্য ভুলের জন্য অপমান, খোটা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়।
-
কাজের স্বীকৃতি নেই, বরং appraisal-এর সময় ভুল তুলে ধরা হয়।
5. অফিসের সংস্কৃতি ও রাজনীতি:
-
অফিস অ্যাসিস্ট্যান্টরা CEO-এর ছায়া হয়ে অফিস রাজনীতি করে; গসিপ ছাড়া কার্যত কোনো কাজ করে না। রাস্তা থেকে টোকাই ধরে নিয়ে এসে ফর্ন্ট ডেক্সে বসায় দিছে।
-
কলিগদের সম্মান করার চেয়ে কুৎসা রটনাই বেশি প্রচলিত।
- কোনো ছোট কাজ করতে বললেও সে ঝাড়ি দিয়ে চলে যায় করতে পারবেনা শুধু কল্পনা করেন কোন লেভেলের কালচার হলে একজন অফিস এসিস্ট্যান্ট এর ব্যবহার এমন হয়।
6. চাকরি ছাড়ার জটিলতা:
-
রেজিগনেশনের সময় ৩ মাসের বাধ্যতামূলক নোটিশ পিরিয়ড থাকে, কিন্তু নানা উপায়ে রিলিজ দেয়া হয় না।
-
স্যালারি/বোনাস কেটে রাখা হয় এবং এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যাপারে টানাহেঁচড়া চলে।
- এক্সপেরিয়েন্স সার্টিফিকেট তো ভুলেও চাওয়া যাবেনা তাহলে মনে হয় কিডনি চেয়েছেন CEO এর
-
কাউকে সহজে চাকরি ছাড়তে দেয় না, একটি “বন্ধ দরজা” সংস্কৃতি। এখন পর্যন্ত কেউ সহজে চাকরি ছাড়তে পারছে বলে রেকোর্ড নেই।
7. পুরোনো প্রযুক্তি নির্ভরতা:
-
প্রতিষ্ঠানটি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে অনিচ্ছুক।
-
ডেভেলপারদের দিয়ে পুরোনো প্রযুক্তি ও কোডিং স্ট্যান্ডার্ডে কাজ করানো হয়।
-
জোড়াতালি দিয়ে প্রজেক্ট চালানো হয়, ফলে বাইরে গিয়ে টেকনোলজি গ্যাপে পড়তে হয়।
8. অতিরিক্ত চাপে টাস্ক থ্রাস্ট:
-
অফিস টাইম শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মডিউল ডেলিভারি চাইলে, "১০ মিনিটের কাজ" বলে ফাঁদে ফেলে অতিরিক্ত ১-২ ঘণ্টা কাজ করায় CEO আনিস সাহেবে।
-
কোনো 'Work-Life Balance' নেই।
✅ সামান্য ইতিবাচক দিক:
-
বেতন নিয়মিত (প্রতি মাসের ১-৫ তারিখের মধ্যে)।
-
হাফ পেমেন্টে খাবার (নাস্তা) পাওয়া যায়।
-
বছরে একবার ট্যুর/রিফ্রেশমেন্টের আয়োজন হয়।
-
শেখার সুযোগ আছে, কিন্তু পুরোনো প্যাটার্নে।
উপসংহার:
MicroMac Techno Valley Ltd.-এ কাজ করে মনে হয়েছে, অটোমেশনের যুগে এখনো ঠেলাগাড়ি চলছে। এখানে কাজ করে ক্যারিয়ারে উন্নতির চেয়ে স্থবিরতা আসার সম্ভাবনাই বেশি। কেউ নতুন কিছু শিখে এগিয়ে যেতে চাইলে এটা উপযুক্ত জায়গা নয়।
পরামর্শ: যারা নতুন, তারা যেন ভেবে-চিন্তে এ ধরনের পরিবেশে প্রবেশ করে। ক্যারিয়ার গড়ার প্রথম ধাপে এমন টক্সিক কালচারে না জড়ানোই ভালো।
CEO আনিস সাহেবের উচিত ছ্যাঁচড়ামি ছেড়ে ভালো মানের ডেভলপার হায়ার করা। বর্তমান ডেভলপারদের সাথে ভাল ব্যবহার করা এর সাথে সাথে নতুন টেকনোলোজি নিয়ে কাজ করা। কিছু টিম লিডদের টক্সিসিটি বাড়ানো এবং অন্যদের মেধা টেনে নিচে নামানোর জন্য এত স্যালারি না দিয়ে অন্য ডেভলপারদের দিন যারা আসলেই কাজ করে। আর কোনো ডেভলপার যদি চাই উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে তাহলে তাকে বাধা না দিয়ে তাকে সাহায্য করা। হয় পারলে তাকে অই লেভেলের স্যালারি এবং কর্ম পরিবেশ দিন নাহয় তাকে ভালোভাবে সম্মানের সহিত বের হতে সাহায্য করুন।